গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জব্দ করা ঘোড়া থানা হেফাজত থেকে গোপনে বিক্রির অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, গত ১৭ মার্চ উপজেলার খলিশাজানি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে জবাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৯টি ঘোড়া উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘোড়াগুলো কালিয়াকৈর থানার হেফাজতে রাখা হয়। থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় একটি ঘোড়া অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, গত রোববার ভোরে বাকি ৮টি ঘোড়া গোপনে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সোমবার সকালে থানায় ঘোড়াগুলো না দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সময় সংবাদকর্মী ও স্থানীয়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সোমবার দুপুরে ঘোড়াগুলো ফেরত আনা হয়। পরে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হয়। তবে ফেরত আনা ঘোড়ার মধ্যে দুটি ঘোড়ার রং আগের জব্দ করা ঘোড়ার সঙ্গে মিল না থাকায় নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনিকভাবে তদন্ত শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ঘোড়াগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনের জন্য প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি, সাময়িকভাবে একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো থানায় ফিরিয়ে এনে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার স্থানে নতুন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


