হুমকির মুখে করতোয়া নদী
ময়লার স্তূপে জিম্মি দেড়শ বছরের প্রাচীন শেরপুর

বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় দেড় শ বছর আগে। খাতা-কলমে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা থাকলেও দেড় শতাব্দী প্রাচীন এই বাণিজ্যিক শহরটি আজও একটি স্থায়ী বর্জ্য শোধনাগার বা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে প্রতিদিনের সংগৃহীত ৩০ থেকে ৪০ টন বর্জ্যের একটি বড় অংশ গিয়ে পড়ছে ঐতিহাসিক করতোয়া নদীর তীরে। এতে নদী ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০ দশমিক ৩৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় বর্তমানে জনসংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। প্রতিদিন ৯টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি, বাজার, শিল্পকারখানা ও ক্লিনিক থেকে বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাগাড় না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে নদীর পাড়ে ময়লা ফেলছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে শেরপুর শহরের ঘাটপার, বারদুয়ারী হাট ও ফুলবাড়ী ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, করতোয়া নদীর পাড়জুড়ে আবর্জনার স্তূপ। কোথাও কোথাও বর্জ্য সরাসরি নদীর পানির সঙ্গে মিশছে। পৌরসভার সীমানার বাইরে শাহ বন্দেগী ও কুসুম্বী ইউনিয়নের নতুন গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকাগুলোতেও একই চিত্র। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ড্রেন ও গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীর পাড়ে বা খোলা জায়গায়।

পৌরসভার নিজস্ব ২ দশমিক ৫ একর জায়গা শেরুয়া বটতলা এলাকায় থাকলেও তার চারপাশ আবাসিক এলাকায় রূপ নেওয়ায় সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে পৌরসভা কার্যালয়ের পেছনের একটি খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে পৌর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাশের বাসিন্দারা দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনরঞ্জন বলেন, ‘বাড়িতে যখন খেতে বসি, তখন ধূপকাঠি জ্বালিয়ে বসতে হয়। উৎকট গন্ধে ভাত খাওয়া যায় না। জনবহুল এলাকা থেকে এই ভাগাড় দ্রুত সরানো দরকার।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই সংকট নিরসনে জনবলের অভাব নেই বলে জানায় পৌর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ৩৫ জন শ্রমিক ও চারজন চালক নিয়মিত কাজ করছেন। তবে স্থায়ী জায়গার অভাবেই সংকট কাটছে না।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শেরুয়া বটতলার জায়গাটি এখন লোকালয় হয়ে গেছে। আমরা হোসনাবাদ মৌজায় সাত একর জমি চিহ্নিত করেছি। সেটি কেনার অনুমতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে স্থায়ী সমাধান হবে।’
পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, তাঁর মেয়াদেও ভস্তার বিল এলাকায় জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনিক অনুমতির অভাবে তা কার্যকর হয়নি।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘আগেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য কারণে তা নাকচ হয়ে যায়। বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় নতুন করে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে স্থায়ী বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু করা হবে।’
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

শেরপুরে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে প্রাণ গেল হোটেল কর্মীর

বিনোদনের নতুন কেন্দ্র শেরপুরের বোয়ালকান্দি

শেরপুরে জাতীয় মৎস্যপক্ষ পালিত

শেরপুরে পাখির বাসা ও ছানা নষ্টের মামলায় আজাহার গ্রেপ্তার

শেরপুর ডিজে হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদের ইন্তেকাল

রিকশাচালকের ছেলের সুইডেনযাত্রার স্বপ্নপূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শেরপুরে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত

১৭ কোটির উন্নয়ন প্রকল্প যেন মরণফাঁদ! শেরপুরে চার মাস ধরে খোঁড়া সড়কে চরম দুর্ভোগ

শেরপুরে জয়লাজুয়ান ডিগ্রি কলেজের প্রধান অফিস সহকারীকে বিদায় সংবর্ধনা

