পাগলা মসজিদের দানবাক্সে কত সোনা-রুপা, শুরু হলো গণনা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে রাখা ৯টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা খাম খুলে এসব সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ ও গণনার কাজ শুরু হয়।
গণনা ও ওজন পরিমাপের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য। এ কাজে সহায়তা করছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয় কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাগলা মসজিদে আসা দর্শনার্থীরা নিয়মিত নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দান করেন। দানবাক্স খোলার পর এসব সামগ্রী সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেগুলোর হিসাব করা হয়।

এবারও স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী ক্যারেট অনুযায়ী আলাদা করে ওজন করা হচ্ছে। হিসাব শেষে বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিলামে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। আর বিদেশি মুদ্রাগুলো দেশভিত্তিক আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুসারে নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা পৃথক করে গণনা করা হয়েছিল। তখন ৪১৫ ভরি ১ আনা সোনা এবং ১৮৪ ভরি রূপা নিলামে বিক্রি করে পাওয়া যায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন থেকে আসে আরও ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
জেলা প্রশাসক জানান, ২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল গত ২৭ জুন।
পাগলা মসজিদের তহবিলে বর্তমানে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে অনুদান হিসেবেও এ পর্যন্ত জমা পড়েছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
এদিকে মুসল্লিদের সুবিধা বাড়াতে মসজিদ প্রাঙ্গণে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা ব্যয়ে তিনটি নামাজের শেড, অজুখানা ও নারীদের জন্য ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
পাশাপাশি পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের আধুনিকায়নে নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনা কার্যক্রম পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

শেরপুরে ২৭৮ টাকার খাজনায় ২ হাজার নিলেন নায়েব

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

দক্ষিণ কোরিয়ায় মানবাধিকার সম্মেলনে যোগ দিতে দেশ ছাড়লেন আসিফ মাহমুদ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ‘হাদি হত্যা বিচার চাই’ লেখা চিরকুট

কিশোরগঞ্জে মসজিদের নিলামে দুই হালি ডিম বিক্রি হলো ২০০০ টাকায়

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কলেজছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে রেললাইন অবরোধ

কিশোরগঞ্জে ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই দ্রোহ’ বিক্ষোভ মিছিল

মায়ের পরকীয়ার বলি দেড় বছরের নূসরাত, গলাটিপে হত্যার দায় স্বীকার

কিশোরগঞ্জ শহরে পিবিআই সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

