সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। এদিকে ধর্ষণে সহযোগিতা ও ঘটনা আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী এবং মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার সকালে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এরপর ঘটনাটি প্রকাশ না করার উদ্দেশ্যে তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রীটিকে মাদ্রাসার ভেতরে আটকে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে মাদ্রাসার রান্নার কাজে সহায়তাকারী এক নারীর সহযোগিতায় সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরে মেয়েটি। এরপর দাদার কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় সে। পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে জানা গেছে।
একপর্যায়ে রাত সাতটার দিকে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত নয়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি তোহফাতুল জান্নাহ ও তাঁর ছোট ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
এলাকায় নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য ছাত্রীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেছেন, শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে আব্দুল বারীর স্ত্রী মাদ্রাসার ছাত্রীদের তাঁর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে চাপ দিতেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তদন্তের ফলও এখনো জানা যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার করা মামলায় তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল বারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
ওসি আরও জানান, পুরো ঘটনায় শিক্ষকের স্ত্রীর ভূমিকা কী ছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

ধর্মের পরিচয় নয়, সবার আগে আমরা বাংলাদেশি: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, ৩ আসামির রিমান্ড

কান্নারত শিশুকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা, সচিবালয় মেট্রো স্টেশনে আটক ব্যক্তি

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ধানমন্ডিতে রোটনের জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর হামলা, চারজন আটক

শিল্পকলায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার ৪

শিল্পকলায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার ৪

শারদীয় দুর্গাপূজায় ছুটির দিনে জমে উঠেছে নিউমার্কেটের কেনাকাটা

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি, মাদরাসার অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার ২

