নাটোরের গুরুদাসপুরে গভীর রাতে বসতবাড়িতে লাগা আগুনে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা গেছেন এক মা ও তার দেড় বছর বয়সী শিশু। নিহতরা হলেন আতিয়া বেগম (২৭) ও তার মেয়ে রওজা মনি। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন আতিয়ার শাশুড়ি মনিকা বেগম, যিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত আনুমানিক তিনটার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামে দিনমজুর রান্টু সরকারের বাড়িতে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আতিয়া বেগম ও তার শিশু কন্যা বের হতে পারেননি। দুধের শিশুকে বুকে জড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তাদের মৃত্যু হয়।
ঘটনায় বাড়ির শোবার ঘর, গোয়াল ও একটি দোকানসহ সাতটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ১৮টি ছাগল পুড়ে মারা যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে জানান রান্টু সরকার।
বিলাপ করতে করতে রান্টু সরকার জানান, তিনিও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি কোনোভাবে ঘর থেকে বের হতে পারলেও ভয়াবহ আগুনের মধ্যে স্ত্রী ও সন্তানকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, স্ত্রী, দুধের সন্তান ও ঘরবাড়ি হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। তার মা মনিকা বেগম দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওহীদুজ্জামান রুবেল জানান, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মনিকা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে নেভানোর চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও ততক্ষণে আগুনে সব পুড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী শাকিল ইসলাম জানান, গোয়ালে দেওয়া কয়েল থেকে আগুন ধরে ধানের খড়ে। সেখান থেকে আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে মা-মেয়ের প্রাণ ঝরে যায়। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, দোকানের মালামালসহ ঘরের আসবাব পুড়ে গেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী নেকজার আলীর একটি দোকান এবং ইসলামের আটটি ছাগল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনাস্থল থেকে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা দেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শিশুসহ মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।


