বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে শুনানি শেষে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ মাহদী হাসানকে আদালতে হাজির করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী এম এ মজিদ।
পুলিশ জানায়, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যায় মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শাস্তোনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পরপরই তার মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হন। রাতভর বিক্ষোভ চলার পাশাপাশি তারা রাতেই আদালত বসিয়ে জামিন শুনানির দাবি জানান। তবে রাতে আদালত না বসায় রোববার সকালে মাহদী হাসানকে আদালতে তোলা হয়।
রোববার সকাল থেকেই মাহদীর মুক্তির দাবিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এর আগে ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। সেদিন শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এনামুল হাসানকে আটকের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে অবস্থান নিয়ে ওসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাগ্ বিতণ্ডা করেন। ওই ঘটনা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি আবুল কালামের উদ্দেশেকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেটিং করতেছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?’
একপর্যায়ে ওসিকে মাহদী হাসান বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বলে। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতোগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’
পুলিশের দাবি, পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।


