ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার ১৯ মিনিট পর নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দেন।
ইসি কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করলেও রিসিভ কপিতে উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর এটি জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এর আগে সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষিত তালিকায় জামায়াতে ইসলামী থেকে ৯ জন, এনসিপি থেকে ২ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) থেকে একজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজনকে সমর্থন দেওয়া হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে ঘোষিত দুই প্রার্থীর একজন ছিলেন মনিরা শারমিন। তবে তার প্রার্থিতা ঘোষণার পরই তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ শতভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মনিরা শারমিনকে প্রার্থী করা হয়।
পরে নির্বাচন কমিশন মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করে। সেই পরিস্থিতিতে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিপি। তবে নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়ে যায়।
ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচনে এনসিপি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


