কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় মাদকের টাকা না পেয়ে নিজ বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনামূল হাসান (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে পুড়ে গেছে বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দোল্লাই নোয়াবপুর ইউনিয়নের কেগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুরো বসতঘরটি পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও নিকটাত্মীয়দের দাবি, কেগলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল ইসলাম-এর বড় ছেলে এনামূল হাসান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেন। ঘটনার দিন সকাল থেকেই তিনি টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ দেন। পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পেট্রোল ঢেলে নিজের ঘরে আগুন দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, আগুন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে। পরে এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘরের ভেতরের সবকিছু পুড়ে যায়।
এনামূল হাসানের বড় বোন হাবিবা জানান, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এনামূল একটি সিএনজি অটোরিকশায় বাড়িতে আসেন। এরপর অটোরিকশাটি বাইরে রেখে পেট্রোলের বোতল হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকে আগুন দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। তিনি বলেন, “আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি। মা-সহ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয়ে দোল্লাই নোয়াবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া বলেন, ঘটনাটি সত্য। স্থানীয়ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে এনামূলের বিষয়ে একটি সালিসও করা হয়েছিল। মাদকাসক্তির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে এনামূল হাসান মুঠোফোনে বলেন, তিনি আগুন দেননি। বরং সেখানে পাকা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেন। তিনি জানান, টিনের ঘর ভাঙার জন্য মিস্ত্রির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তবে এরপর তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


