বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই আলোচনায় উঠে এসেছে বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিচিতি নিয়ে বিতর্ক। সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এবার জবাব দিলেন তামিম ইকবাল।
রোববার (৭ জুন) বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষে সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম। ফলাফল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে বোর্ডকে নিয়ে নানা ধরনের ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন তার লক্ষ্য সেই পরিচয় বদলে ক্রিকেটকেন্দ্রিক একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা।
তামিম বলেন, “অনেকে অনেক ধরনের ট্যাগ দিচ্ছে, এটা অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত মত। দেখি, বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি পারি না ভবিষ্যতে।”
এর আগে বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সন্তানদের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ওই কমিটিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্রিকেটাঙ্গনেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বোর্ড পরিচালকদের উদ্দেশে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন তামিম। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পরিচয় বা পারিবারিক পটভূমি নয়, সবার প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া।
তামিমের ভাষায়, “আমি একটা জিনিস একদম স্পষ্ট করে বলেছি যে, আপনাদের ব্যক্তিগত পরিচয় যা–ই থাকুক না কেন, আমাদের দায়িত্ব একটাই। আর ওই দায়িত্বের কারণেই আমরা এখানে বসেছি। সেটা হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
এবারের নির্বাচনে ঢাকার ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম ও সাকেফ আহমেদ সালাম।
ভোটের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন তামিম। তিনি পেয়েছেন ৭৩ ভোট। তার পরেই ৭২ ভোট নিয়ে রয়েছেন সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ ও ইসরাফিল খসরু। মাসুদুজ্জামান পেয়েছেন ৭০ ভোট এবং ইয়াসির ফয়সালের ঝুলিতে গেছে ৬৮ ভোট।
এ ছাড়া ফাহিম সিনহা ও শাহনিয়ান তানিম পেয়েছেন ৬৬টি করে ভোট। আসিফ রাব্বানির ভোট ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাসের ৬৩। রফিকুল ইসলাম বাবু পেয়েছেন ৫৩ ভোট এবং ডা. মাহবুব শামীম পেয়েছেন ৪১ ভোট


