বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আতিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিল স্থানীয় জনতা। তবে ওই যুবক থানা থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী চালক। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বনমরিচা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক আতিকুল ইসলাম উপজেলার বাগড়া কলোনী গ্রামের ইমান আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত প্রায় ৩টার দিকে শেরুয়া বটতলা এলাকার অটোরিকশাচালক বাবলু সরকার ধুনট মোড় থেকে দুই যাত্রী নিয়ে বনমরিচার দিকে যাচ্ছিলেন। বনমরিচা এলাকার একটি চাতালের পাশে পৌঁছালে যাত্রীবেশে থাকা ওই দুজন অস্ত্রের মুখে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় চাতাল শ্রমিকেরা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে একজন পালিয়ে গেলেও আতিকুল ইসলামকে একটি দেশীয় অস্ত্রসহ ধরে ফেলে তারা। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে তিনি অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে না নিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। এ বিষয়ে এসআই হায়দার আলী বলেন, “আতিকুল গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়নি। বরং তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়দের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।”
তবে অটোরিকশাচালক বাবলু সরকারের অভিযোগ ভিন্ন। তিনি জানান, পুলিশের কথামতো তারা আতিকুলকে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সকাল ১০টার দিকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত এসআই জাহিদুল ইসলামের কক্ষে নেওয়া হলে তিনি তাদের ডিউটি অফিসারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ডিউটি অফিসারের কক্ষে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও পুলিশ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত যুবক পুলিশ ও চালকের সামনেই হুমকি দিয়ে থানা থেকে নির্বিঘ্নে চলে যায়।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল। থানা থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


