জ্বালানি সংকটে চরাঞ্চলে ব্যাহত সেচ, ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

জ্বালানি তেলের সংকটে গাইবান্ধা জেলার তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদঘেঁষা বিদ্যুৎবিহীন চরাঞ্চলের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ভরা মৌসুমেও ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত প্রায় দেড় শতাধিক চরাঞ্চলে জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, তিস্তা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ ঘিরে বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বোরো ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন ফসলের সবুজ সমারোহ। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর। কিন্তু জ্বালানি সংকটে সেই কৃষিকাজেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নর ব্যাংকার চরের কৃষক আবু জাফর তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান ও দুই বিঘায় ভুট্টার আবাদ করেছেন। কিন্তু সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তিনি বলেন, সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসল ঠিকভাবে উৎপাদন হবে না। স্থানীয় বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। শহরে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প পরিমাণ তেল পাওয়া যায়, যা দিয়ে একদিনের সেচও দেওয়া সম্ভব হয় না। তেল আনতে গিয়ে পুরো দিন নষ্ট হয়, অনেক সময় খালি হাতেই ফিরতে হয়।
শুধু আবু জাফর নন, একই সমস্যায় পড়েছেন চরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক। জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ডিজেলচালিত সেচ পাম্প। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব পাম্পই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। ফলে সময়মতো পানি না পেয়ে ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল ঝুঁকিতে পড়ছে। কোথাও কোথাও জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন কিংবা নদী পাড়ি দিয়ে শহরে গিয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। ভরা মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, এখন ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
আলগার চর এলাকার কৃষক মঞ্জিল মিয়া জানান, চরাঞ্চলের হাটবাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। শহরে গিয়ে তেল আনতে যাতায়াতে খরচ বাড়ছে, তাতেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষকদের সেচের প্রধান মাধ্যম ডিজেলচালিত পাম্প। এসব এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছে।
চরাঞ্চলের এসব ফসল শুধু জেলার নয়, দেশের খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হলে এসব উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার সঙ্গে অন্য কোনো ভাতার তুলনা চলে না: ফজলুর রহমান

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ও হাসিনা, গেছোস কি না ভুইলা আমারে?: শেখ হাসিনাকে ব্যঙ্গ করে আম্মারের গান

জাতীয়তাবাদের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের ৫ম চালান

জাতীয় চার নেতার নামে থাকা পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন

মরিশাসে কাচের বাক্সের নিচে চাপা পড়ে ৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা বাদ দিয়েছিলেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়বে সরকার: স্পিকার

