বগুড়ার শেরপুরে শ্রমিকের পাওনা ৫ হাজার টাকা চাওয়ায় মারধরের শিকার করিম প্রামানিক ওরফে হাদু (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বুধবার রাতে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আনোয়ার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত করিম প্রামানিক উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিম প্রামানিকের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লার অধীনে শ্রমিকের কাজ করতেন। ওই কাজের মজুরি বাবদ আনোয়ার মোল্লার কাছে ৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল শফিকুলের।
গত ২১ এপ্রিল রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে শফিকুলকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন আনোয়ার মোল্লা। সেখানে শফিকুল পাওনা টাকা চাইলে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা তাকে গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। ছেলের চিৎকার শুনে করিম প্রামানিক তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আনোয়ার মোল্লা লোহার শাবল দিয়ে করিমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে করিম প্রামানিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। পরদিন ২২ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ওই দিন রাত পৌনে ১০টার দিকে বাড়িতে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. শাহাদত প্রামানিক বাদী হয়ে ২৩ এপ্রিল (বুধবার) রাতে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনোয়ার মোল্লা, হাফিজ মোল্লা, বাবু মোল্লা, মোমিন, সিহাব ও আমিনুর মোল্লাসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মইনুদ্দীন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তা নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আনোয়ার মোল্লাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


