শীত পেরিয়ে গ্রীষ্মের আগমন ঘটলেও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কম্বল এখনো পুরোপুরি বিতরণ করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের (মেম্বার) মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ইউপি সদস্য।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের কম্বল যথাসময়ে প্রকৃত অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেম্বারদের সাথে আলোচনা না করে একক সিদ্ধান্তে কিছু কম্বল বিতরণ করেছেন। এখনো অনেক কম্বল পরিষদের গুদামে মজুদ রয়েছে।
ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, “নিয়ম অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তা মানেননি। তিনি দুস্থদের তালিকা না করে নিজের লোকজনের মধ্যে কিছু কম্বল বিতরণ করেছেন। এখনো অনেক কম্বল গুদামে পড়ে আছে। রবিবার দুপুরে সেই কম্বলগুলো গোপনে সরানোর চেষ্টা করা হলে আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাধা দিয়েছি।”
তবে আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বেশিরভাগ কম্বল তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু মেম্বার তাদের এলাকার জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল সময়মতো নিতে দেরি করায় কিছু অংশ এখনো গুদামে রয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জাব্বার বলেন, “মূলত মেম্বারদের কারণেই বিতরণ কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। তবে আমরা দ্রুত সকল কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু জানান, কম্বল বিতরণে অনিয়ম বা বিলম্বের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


