কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে ইতিহাস বা ব্যক্তির মর্যাদা বদলে যায়, এমন ধারণায় তিনি বিশ্বাস করেন না।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে জিয়াউর রহমান জাতির পিতা, এভাবে ভাবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান তিনি আন্তরিকভাবে স্বীকার করেন। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, কে কোনটি রাখল বা বাদ দিল সেটি বড় বিষয় নয়; শেষ পর্যন্ত দেশের মানুষের কাছে কোনটি গ্রহণযোগ্য সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট জাতীয় দিবস হিসেবে বাতিলের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কাদের সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হোক বা না হোক—যদি তা বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নেয়, সেটিই হবে প্রকৃত মূল্যায়ন। তবে ৭ মার্চের ভাষণ স্থগিত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এতে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের হট্টগোল প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, গণতন্ত্র থাকলে সংসদে মতবিরোধ ও হট্টগোলও থাকতে পারে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরকার প্রস্তুত করে এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পাঠ করেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশের মানুষ মূলত চায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকুক এবং মানুষের মতামত ও সম্মানের মূল্য দেওয়া হোক। এর বাইরে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো বিশেষ চাওয়া নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


