অন্বেষণ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই বড় ধরনের তদন্তের মুখে পড়েছে। গত সোমবার সকালে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) পিএইচডি গবেষণায় কর্মরত জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি সম্প্রতি নিজেদের বাসস্থানে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকে চলমান ফৌজদারি তদন্তের পরিধি প্রশাসন আরও বাড়াচ্ছে এবং সেখানে নতুন করে ইউএসএফের এই জোড়া খুনের ঘটনাটিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হত্যাকাণ্ডটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরাসরি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন। ফলে গুরুতর অপরাধ সংঘটনে উন্নত প্রযুক্তির এমন সরাসরি ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এই চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনার মূল আইনি তদন্ত নিবিড়ভাবে পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তারকৃত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বা ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহ আগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে একটি পৃথক ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। গত বছর ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক গোলাগুলির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লোরিডা সরকার ওই তদন্তটি শুরু করেছিল।
ফ্লোরিডা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছর ওই ভয়াবহ হামলার আগে বন্দুকধারীকে অস্ত্র ও গুলিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছিল ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট। এমনকি চ্যাটজিপিটি তাকে হাতে-কলমে হামলার ছক তৈরি করতেও বিস্তারিতভাবে সাহায্য করেছিল বলে জানা যায়।
তবে এবারের জোড়া খুনের ঘটনায় পুনরায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততা সামনে আসায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এক শোকবার্তায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিহত দুজনের স্মরণে ক্যাম্পাসে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে সার্বক্ষণিক থাকার এবং যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনি কার্যক্রমে পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


