বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নে ৪৫ বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রেখে পানিসারা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ফলের মেলা। প্রতি বছরের ন্যায় জ্যৈষ্ঠের এই সময়ে বোরো ধান কাটার পর দিনভর এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকেই পানিসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে মৌসুমী ফলের পসরা সাজিয়ে বসেন শতাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী।
স্থানীয়রা জানান, বিশালপুর ও পার্শ্ববর্তী কুসুম্বি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষের কাছে এই মেলাটি ফলের মেলা হিসেবেই পরিচিত। মেলায় আম, লিচু, জাম, কাঁঠাল, লটকন ও বাঙ্গিসহ হরেক রকমের মৌসুমী ফলের সমাহার ঘটে। এছাড়া মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও লোকজ খাবারের দোকান।
মেলার অন্যতম আয়োজক সন্তোষ সরকার বলেন, “প্রায় ৪৫ বছর আগে আমাদের গ্রামে এই মেলার
সূচনা হয়। প্রতি বছর ১১ জুন বোরো ধান কাটা শেষ হলে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি এলাকার মানুষের কাছে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।”
মেলায় আগত দর্শনার্থী তারিকুল ইসলাম ও আজিজুল হক বলেন, পানিসারা ছাড়াও তেতুলিয়া, দোয়েলসারা, ভাদার, মান্দাইল, আমইন ও পোশিসহ আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ এই মেলায় কেনাকাটা করতে আসেন। মেলা উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতেই জামাই-ঝি ও দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজন নাইওরে আসেন। ফলে পুরো গ্রামে এখন ঈদের আমেজ বিরাজ করছে।
মেলায় মিষ্টির দোকান সাজিয়ে বসা কারিগর যুধিষ্ঠি চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “আমি অন্তত ৪০ বছর ধরে এই মেলায় নিয়মিত আসছি। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দুপুর থেকেই মেলায় ভিড় করতে শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কেনাকাটা চলে।”
ফল বিক্রেতারা জানান, তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভালো মানের আম ও লিচু সংগ্রহ করে এই মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামীণ জনপদের এই অনন্য ঐতিহ্যটি স্থানীয়দের সামাজিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।


