নেত্রকোনায় কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে হাওর এলাকার বড় অংশ এখন পানির নিচে চলে গেছে। ইতোমধ্যে দুই হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বিকেল ৩টার দিকে ভুগাই-কংস নদীর পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। একই সময় মগড়া নদীর পানিও নেত্রকোনা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
জেলার আরও কয়েকটি নদী, উব্দাখালি, বউলাই ও ধনু, এগুলোর পানিও দ্রুত বাড়ছে। দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ঢলের তোড়ে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু ভেসে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সামনে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হতে পারে, এতে নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, বাঁধগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কোথাও ভাঙনের খবর না মিললেও পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি আছে।
এদিকে, হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে মাটি ফেলে জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার পথ সংকুচিত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো অনেক জমির ধান কাটা হয়নি। এর মধ্যে জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় ধানের গোড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২ হাজার ২১৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন তথ্য সংগ্রহ চলছে, এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।


