বগুড়ায় কমছে না সবজির দাম, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ

বগুড়ার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বিশেষ করে সবজির বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দামই বাড়তি। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। একই সঙ্গে মাছ ও ডিমের দামও চড়া থাকায় বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বগুড়া শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দার এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ সবজি। কিছু পণ্যের দাম আরও বেশি।
ক্রেতারা বলছেন, আয়-রোজগার আগের তুলনায় বাড়েনি। অথচ প্রতিদিনের বাজার খরচ বাড়ছে। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। আগে যে পরিমাণ সবজি, মাছ কিংবা ডিম কিনতেন, এখন অনেক পরিবারই তার চেয়ে কম পরিমাণে কিনছেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস ধরে বেশির ভাগ সবজির বাজার তুলনামূলক চড়া। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় মাঠে উৎপাদন কমে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার শত শত হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জেলার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। সবজি, পাট ও আমনের বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়ে সবচেয়ে বেশি।
জেলায় প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবজির জমি রয়েছে প্রায় ১৩৬ হেক্টর। মাঠের উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতে ব্যবসায়ীদের দূরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ায় তার প্রভাবও পড়ছে খুচরা বাজারে।
বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, দেশি আদা ১৬০, দেশি রসুন ১২০ ও চায়না রসুন ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শুকনা মরিচের দাম ছিল ৪০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি।
আলু বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। এ ছাড়া পটল ৪০, বেগুন ১০০, গাজর ১০০, টমেটো ১২০, করলা ১০০, ঢেঁড়স ৬০, ঝিঙে ও তরী ১০০, পেঁপে ৩০, বইকচু ৬০ থেকে ৮০, শসা ৪০ এবং কাকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সবজির বাজারেই নয়, মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি ছোট-বড় মুরগি ২৯০ টাকা এবং লেয়ার ও লেয়ার পাকিস্তানি মুরগি ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির তুলনায় কম খরচে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে অনেক পরিবার এখন ফার্মের ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। তবে সেখানেও খুব একটা স্বস্তি নেই। ফার্মের ডিম প্রতি হালি ৪৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দামের চাপ রয়েছে। প্রকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত। বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০, কাতলা ৪০০ থেকে ৮০০ এবং বড় বিগ্রেডকার্প ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৪০০ এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতাই আগের তুলনায় কম পরিমাণে মাছ কিনছেন।
মাংসের বাজারেও দামের চাপ রয়েছে। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়তি দেখছেন। সব প্রয়োজনীয় পণ্য একসঙ্গে কেনা এখন কঠিন হয়ে গেছে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে কিনতে হচ্ছে।
ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. খোকন মিয়া বলেন, সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
সব মিলিয়ে বগুড়ার বাজারে এখন ক্রেতাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম। বিশেষ করে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

ওজনে কারচুপি ও প্রতারণার দায়ে বগুড়ায় ৭ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

বগুড়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুব মহিলা লীগ নেত্রী নূপুর গ্রেফতার

বগুড়ায় সিলগালা হোটেলে অবৈধ কার্যক্রম, নারীসহ আটক ২০

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শেরপুরের বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩

বগুড়ায় একই স্থানে বাসের চাপায় ৭ ও কারের ধাক্কায় নিহত ২

বগুড়ায় বাসের চাপায় প্রাণ গেল ৭ শ্রমিকের

বগুড়ায় ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পলাতক স্বামী

বগুড়ায় মানসনদহীন ৪ দই প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআইয়ের জরিমানা

বগুড়ার উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, গঠন হচ্ছে বিশেষ কমিটি

