বগুড়ার উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, গঠন হচ্ছে বিশেষ কমিটি

বগুড়া জেলার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে নতুন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়ার উন্নয়নকে পরিকল্পিত ও যুগোপযোগী করতে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নগর ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবাসহ বিভিন্ন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিদ্যমান পিপিআর ২০০৮ সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি সংশোধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন বিধিমালা জারি হতে পারে। এ কারণে নতুন পিপিআর কার্যকর হওয়ার আগে কোনো নতুন বরাদ্দের টেন্ডার না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বগুড়া জেলার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এবং জেলার ১২টি পৌরসভার উন্নয়নে আরও ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী তিন বছরে জেলার গ্রামীণ অবকাঠামোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সংসদীয় এলাকার জন্য ১০ কোটি টাকা করে জরুরি সড়ক মেরামতের প্রকল্প প্রস্তাব আগামী সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় বগুড়াকে পৃথক বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা, ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, সারিয়াকান্দি বাঁধের স্থায়ী সুরক্ষা, শেরপুর, বনানী ও মাটিডালী এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৮০০-তে উন্নীত করা এবং নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবিসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়সারা মনোভাব গ্রহণযোগ্য হবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় অতীতে বগুড়া নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করে জেলাটিকে জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করতে কাজ করছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বগুড়ার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইন, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর

বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, সন্দেহে এক নারী পুলিশ হেফাজতে

বগুড়ায় পুকুরে ডুবে দুই ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু

খালেদা জিয়ার নামে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ছাত্রদলের

বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

ধুনটে যুবদল নেতার ওপর ককটেল হামলা, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বগুড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত

বগুড়ায় ভুয়া ডাক্তারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

ধুনটে যমুনা নদীতে ভাসমান নারীর মরদেহ, পরিচয় মেলেনি

