অন্বেষণ ডেস্ক : দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি বিশেষ মহল অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং তারা দেশের সীমানার বাইরে বা অনেক দূরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে গোপন বৈঠক করছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোরের ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর কিছু সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের একটি বিশেষ অংশ দেশের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাষ্ট্র সংস্কারের রূপকল্প বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়। ফলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও কাঠামোগত সংস্কার ব্যাহত হওয়ার সুস্পষ্ট আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, যারা একসময় ট্রেনের বা বাসের টিকেট বিক্রি করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে, জনগণের ম্যান্ডেট বা রায় তাদের পছন্দ নয় বলেও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই স্বার্থান্বেষী মহলটি বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠে ময়দানে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তবে দেশের সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ তাদের এই গভীর চক্রান্ত সম্পর্কে যথেষ্ট সজাগ রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, এই গোষ্ঠীটি মুখে সব সময় বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অপবাদ দিয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তারাই সেই পতিত ফ্যাসিবাদকে অত্যন্ত সুকৌশলে ক্ষমা করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কিংবা দেশের অনেক দূরে গিয়ে তারা ফ্যাসিবাদের সেই চিহ্নিত দোসরদের সাথে নিয়মিত গোপন মিটিং করে চলেছে। তার এই জোরালো মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধীদের দ্বৈত নীতি ও ষড়যন্ত্রের বিষয়টিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
রাজনৈতিক শক্তির উৎস হিসেবে বিএনপির মূল ভরসা এদেশের সাধারণ জনগণ। দলটি কখনোই কোনো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে কিংবা তাদের আনুকূল্য নিয়ে রাজনীতি করে না বলে দৃঢ়তার সাথে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নিয়েই বিএনপি আজ সরকার পরিচালনার এই পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও দেশের আপামর জনতার অকৃত্রিম ভালোবাসাকে পুঁজি করেই তারা আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
যশোরের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় স্থানীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দুপুরের পর থেকেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত এই বিশাল জনসমুদ্র প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখনো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বর্তমান সরকারের প্রতি অবিচল আস্থা রেখেছে। পরিশেষে, দেশের বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সবাইকে অত্যন্ত সজাগ, ধৈর্যশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য সমাপ্ত করেন।


