বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়া সরকারের আগ্রহকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে সরকার। এ কারণে দেশটির শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সরকার আশাবাদী।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা বাড়াতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সরকারের অন্যান্য উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনও বিবেচনায় রাখা হবে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দলটি কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করলে তা বেআইনি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ কারণে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তাদের অবস্থানও বিবেচনার বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই মাসে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এসব ঘটনায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
ব্রিফিংয়ে মাজারে দান করা অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন মাজারে জনগণের দেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সরকার নীতিগতভাবে এ বিষয়ে বিশ্বাস করে।


