বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই ও চালক হত্যা মামলার এক আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মারা গেছেন। পুলিশের দাবি, হাজতখানার বাথরুমে গিয়ে নিজের পরনের লুঙ্গি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসামির নাম মো. আসাদ (৩০)। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে।
পুলিশ জানায়, সকালে আসাদ হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাইরে না আসায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি নজরে আসে। পরে পুলিশ সদস্যরা বাথরুমের দরজা খুলে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার গলায় লুঙ্গি পেঁচানো ছিল।

পরে দ্রুত উদ্ধার করে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, হাসপাতালে আনার পর আসাদের গলায় একটি চিহ্ন দেখা গেছে। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মান্নান গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে।
এ ঘটনায় ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৯৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই দুপুরে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে আটক করা হয়। পরে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে তাকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁয় অভিযান চালানো হয়।
ডিবি জানায়, অভিযানের পর রাতে তাকে কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে হাজতখানার বাথরুমে গিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, সিএনজি ছিনতাই ও চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

বগুড়ায় শ্যালিকাকে ধর্ষণের মামলায় দুলাভাইয়ের যাবজ্জীবন

গাবতলীতে ‘খাদিজা ফিলিং স্টেশন’ ও ‘নিউ মডেল দই ঘর’কে জরিমানা

গাবতলীর স্বর্ণা বেকারী’তে মিলল পোড়া তেল ও ক্ষতিকর লবণ

বগুড়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে সাবেক যুবলীগ নেতার মৃত্যু

বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে: আতিকুর রহমান রুমন

বগুড়ায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে তিনজন গ্রেপ্তার

বগুড়ায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় যুবক গ্রেপ্তার

বগুড়ায় বিএসটিআইয়ের সনদহীন ৫ খাদ্য কারখানাকে ৭ দিনের আলটিমেটাম

বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু, মরদেহের ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন

